অপ্রকাশিত রচনা নবীজি pdf
হুমায়ূন আহমেদ
তাঁর ‘নবীজি’ রচনার উদ্যোগের পেছনে একটি ছোট্ট গল্প আছে। প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশ যখন বাংলাবাজারে পূর্বতন বিক্রয়কেন্দ্র পরিবর্তন করে বৃহৎ পরিসরের বর্তমান বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধনের জন্য হুমায়ূন আহমেদকে অনুরোধ করে, তিনি তাতে সম্মতি দেন।
লেখালেখির গোড়ার দিকে প্রকাশনা সংক্রান্ত কাজে প্রায়ই বাংলাবাজারে এলেও পরে দীর্ঘদিন আর ও মুখো হননি তিনি।
অন্যপ্রকাশের নতুন বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন উপলক্ষে বহুদিন পর তিনি বাংলাবাজারে এলেন। যথা সময়ে ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হলো বিক্রয় কেন্দ্রের।
এক মাওলানা সাহেব প্রার্থনা করলেন। তারপর কী ঘটল সেটা হুমায়ূন আহমেদ নিজেই লিখেছেন দৈনিক কালের কণ্ঠে’র সাময়িকী ‘শিলালিপিতে’ (২১ অক্টোবর, ২০১১)।
আমি খুবই অবাক হয়ে তাঁর প্রার্থনা শুনলাম। আমার কাছে মনে হলো, এটি বইপত্র সম্পর্কিত খুবই ভালো ও ভাবুক ধরনের প্রার্থনা।
একজন মাওলানা এত সুন্দর করে প্রার্থনা করতে পারেন যে আমি একটা ধাক্কার মতো খেলাম।
মাওলানা সাহেবকে ডেকে বললাম, ‘ভাই, আপনার প্রার্থনাটা শুনে আমার ভালো লেগেছে।’
মাওলানা সাহেব বললেন, ‘স্যার, আমার জীবনের একটা বড় আকাক্ষা ছিল আপনার সঙ্গে একদিন দেখা হবে। আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। আপনার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।’
আমি তাঁর কথা শুনে বিস্মিত হলাম।
আমি বললাম, ‘এই আকাক্ষা ছিল কেন?’ মাওলানা সাহেব বললেন, ‘আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই, কারণ আমি ঠিক করেছি, দেখা হলেই আপনাকে আমি একটা অনুরোধ করব।’
‘কী অনুরোধ শুনি ?’
‘আপনার লেখা স্যার এত লোক আগ্রহ নিয়ে পড়ে, আপনি যদি আমাদের নবি-করিমের জীবনীটা লিখতেন, তা হলে বহু লোক লেখাটি আগ্রহ করে পাঠ করত। আপনি খুব সুন্দর করে তাঁর জীবনী লিখতে পারতেন।’
মাওলানা সাহেব কথাগুলো এত সুন্দর করে বললেন যে, আমার মাথার ভেতরে একটা ঘোর তৈরি হলো।
আমি তাঁর কাঁধে হাত রেখে বললাম, ‘ভাই, আপনার কথাটা আমার খুবই মনে লেগেছে। আমি নবী-করিমের জীবনী লিখব।’
সীরাত সম্পর্কে আরো বাংলা কিতাব পড়ুন: সীরাত
আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল: https://t.me/kitabbhubon




