Blog

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. এর কিতাবসমূহ

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.এর কিছু বাংলা কিতাবের pdf লিংক নিচে দেওয়া হল।
আসুন প্রথমে আমরা তার জীবনী সম্পর্কে কিছু জেনে নেই।

আশরাফ আলী থানভী রহ. ছিলেন একজন দেওবন্দী আলেম, সমাজ সংস্কারক, ইসলামী গবেষক এবং পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তিনি ভারতের থানা ভবনের নিবাসী হওয়ার কারণে তাঁর নামের শেষে “থানভী” যোগ করা হয়। ভারত উপমহাদেশ এবং এর বাইরেরও হাজার হাজার মানুষ তাঁর কাছ থেকে আত্মশুদ্ধি এবং তাসাউফের শিক্ষা গ্রহণ করার কারণে তিনি “হাকীমুল উম্মত” (উম্মাহর আত্মিক চিকিৎসক) উপাধিতে পরিচিত। মুসলমানদের মাঝে সুন্নতের জ্ঞান প্রচারের সংস্থা “দা’ওয়াতুল হক” তাঁরই প্রতিষ্ঠিত।

জন্ম ও শৈশব:

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. ১৯ আগস্ট, ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে / রবিউস সানী ৫, ১২৮০ হিজরীতে ভারতের উত্তর প্রদেশের থানা ভবনে জন্মগ্রহণ করেন। বুজুর্গ হাফেজ গোলাম মুর্তজা পানিপথীর নির্দেশক্রমে নবজাতকের নাম রাখা হয় “আশরাফ আলী”। তাঁর বাবার নাম ছিল আবদুল হক। তিনি উমর রা. এর বংশের লোক ছিলেন আর তাঁর মাতা ছিলেন ছিলেন আলী রা. বংশের। আল্লামা থানভী রহ. ভাই-বোনদের মাঝে সকলের বড় ছিলেন। শৈশবে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি মাকে হারান।

শিক্ষাজীবন:

শৈশবেই তিনি হাফেয হোসাইন আলী রহ.-এর কাছে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেন। ফার্সি ও আরবী ভাষার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন নিজ গ্রামেই হযরত মাওলানা ফতেহ মুহাম্মদ থানভী রাহ.-এর কাছে। ১২৯৫ হিজরীতে হাকীমুল উম্মত রহ. ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। পাঁচ বছর পর ১৯ বছর বয়সে তিনি দেওবন্দের শিক্ষা সমাপ্ত করেন। দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি হাদীস, তাফসীর, আরবী সাহিত্য, ইসলামী দর্শন, যুক্তিবিজ্ঞান, ইসলামি আইন এবং ইতিহাস অধ্যয়ন করেন। দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম যুগের শিক্ষা সমাপনকারী ছাত্রদের মাঝে তিনি অন্যতম। এরপর তিনি কেরাত (কুরআন পাঠ সম্পর্কিত একটি বিদ্যা) ও তাজবীদের (কুরআনের শব্দসমূহ সঠিকভাবে উচ্চারণ করার বিদ্যা) শিখেন মক্কা মুকাররমায় মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ্‌ মুহাজিরে মক্কীর কাছে।

কর্মজীবন:

১৩০০ হিজরীতে হাকীমুল উম্মত রহ. কানপুরের ফয়যে আম মাদ্রাসায় মাসিক ২৫ টাকা বেতনে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর জ্ঞানের কারণে তাঁর উপাধি দেয়া হয় বাহরুল উলুম (জ্ঞানের সাগর)। পরবর্তীতে তিনি কানপুরের টপকাপুরে জামিউল উলূম মাদ্রাসার প্রধান পরিচালকের আসন অলংকৃত করেন। সেখানে তিনি ১৪ বছর শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে ১৩১৫ হিজরীতে হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কীর রহ. পরামর্শে তিনি থানা ভবনের খানকাহে ইমদাদিয়ায় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেই ইসলাম প্রচার, আত্মশুদ্ধি, তাসাউফ ও রচনার কাজ করে যান।

মৃত্যু:

১৬ রজব, ১৩৬২ হিজরী/ জুলাই ১৯, ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে আল্লামা থানভী রহ. থানা ভবনে মৃত্যুবরণ করেন। সেদিন সোমবার ছিল। তাঁর জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা যাফর আহমেদ উসমানী রহ. । থানাভবনেই ইশকে বাযান নামক কবরস্থানে মুজাহিদ হাফেয জামেন শহীদ রহ.-এর মাযারের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

রচনাবলী:

তিনি সারা জীবনে ছোট-বড় প্রায় সাড়ে বারো হাজারের উপরে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর মাঝে অন্যতম হলো ফিকাহ বিষয়ক গ্রন্থ বেহেশতী জেওর । যা ভারত উপমহাদেশের সাধারণ মুসলমানদের মাঝে বহুল পঠিত। এছাড়া তাঁর রচিত কুরআন শরীফের উর্দূ তরজমার গ্রন্থ বয়ানুল কুরআন (কুরআনের ব্যাখ্যা) সুপরিচিত। তিনি জাতির কল্যাণের জন্য তাঁর সকল গ্রন্থের স্বত্ব উন্মুক্ত রেখেছেন।

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ এর কিছু কিতাব:
ডাউনলোড করার জন্য কিতাবের উপর ক্লিক করুন।


আরো কিছু কিতাব

29 । মুনাজাতে মাকবুল 

30। কসদুস সাবীল 

31। মাকামে সাহাবা ও কারামাতে সাহাবা 

32। যুক্তির আলোকে শর’ঈ আহকাম 

33। রূহে তাসাউফ 

34। মুসলিম বর-কনে 

35। দশ মিনিটে তাজবীদ শিখা 

36। মাওয়ায়েযে আশরাফিয়া-১ 

37। মাওয়ায়েযে আশরাফিয়া-২ 

38। মাওয়ায়েযে আশরাফিয়া-৩ 

39। মাওয়ায়েযে আশরাফিয়া-৪ 

40। মাওয়ায়েযে আশরাফিয়া-৫ 

41। মাওয়ায়েযে আশরাফিয়া-৬ 

Leave a Reply

%d bloggers like this: