নবীর অবমাননাকারীর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কিছু কিতাব - Kitabbhubon

Blog

নবীর অবমাননাকারীর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কিছু কিতাব

নবীর অবমাননাকারীর ভয়াবহ

নবীর অবমাননাকারীর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কিছু কিতাব
কুরআন মজীদের অনেক আয়াতে আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম, বিশেষত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমান আনা এবং ঈমানের দাবিগুলো পূরণ করার আদেশ করা হয়েছে। তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং কথায় বা আচরণে সব ধরনের গোসতাখি থেকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবীর অবমাননাকারীর ভয়াবহ পরিণতির কথাও কুরআন মজীদের অনেক আয়াত এবং অনেক সহীহ হাদীসে বিদ্যমান রয়েছে।  

সীরাতুন্নবী ও ‘আকযিয়াতুন নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তদ্রূপ সীরাতুস সাহাবা ও‘আকযিয়াতুস সাহাবা’র উপর যেসব কিতাব লেখা হয়েছে তাতেও এ বিষয় সম্পর্কে প্রচুর তথ্য রয়েছে। তাছাড়া ফিকহ ও ফাতাওয়ার কিতাবসমূহে, কোনোটাতে আলাদা শিরোনামে, আবার কোনোটায় ‘কিতাবুল হুদূদ  ওয়াত তা’যীরাতে’ বা কিতাবুল জিহাদের ‘বাবুর রিদ্দা’য় এ সংক্রান্ত মাসআলা-মাসাইল বিস্তারিতভাবে রয়েছে।

এরপরও শুধু রাসূল-অবমাননার শাস্তি ও ভয়াবহতার উপর আলাদা আলাদা কিতাব লেখা হয়েছে। কয়েকটি কিতাবের নাম উল্লেখ করা হল :

১. আমাদের জানা মতে, সর্বপ্রথম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন সাহনুন কায়রাওয়ানী মালেকী (২০২-২৬৫ হি .) রাহ. এ বিষয়ে কিতাব লিখেছেন। তাঁর রচনাবলির তালিকায়

رسالة من سب النبي صلى الله عليه وسلم

নামক একটি রিসালা আছে। (দেখুন : আদদিবাজুল মুযহাব পৃ. ৩৩৪)

২. কাযী ঈয়ায মালেকী রাহ. (৪৭৬-৫৪৪ হি.) তার ‘আশ-শিফা বিতাআরীফি হুকুকিল মুসতাফা’নামক চার অংশে বিভক্ত কিতাবটির চতুর্থ অংশের শিরোনাম এই-

القسم الرابع في تصرف وجوه الأحكام فيمن تنقصه أو سبه عليه الصلاة والسلام

এ অংশটি তিনটি অধ্যায়ের অধীনে পঁচিশটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত। এখানে উপরোক্ত বিষয়ে এত বিস্তারিত আলোচনা আছে যে, তা আলাদা কিতাবের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

ইবনে ফরহুন মালেকী রাহ.-এর    অভিমত হল-

وقد استوعب القاضي عياض رحمه الله الكلام في هذا وما أشبهه ولم يترك لغيره مقالا.

৩. হাফেয আবুল আববাস আহমদ ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী রাহ. (৬৬১-৭২৮ হি.)। তাঁর অনবদ্য ও ঐতিহাসিক গ্রন্থটির নাম হল-

الصارم المسلول على شاتم الرسول

কিতাবটি বেশ কয়েকটি মাকতাবা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এটি একটি উত্তম গ্রন্থ।

৪. আল্লামা তাকী উদ্দীন আস সুবকী শাফেয়ী রাহ. (৬৮৩-৭৫৬ হি.)। তার কিতাবের নাম

السيف المسلول على من سب الرسول

বেশ কিছু বিষয়ে এই কিতাবটি ইবনে তাইমিয়া রাহ.-এর কিতাব থেকেও অগ্রগণ্য। দারুল ফাতহ আম্মান জর্ডান থেকে ইয়াদ আহমদ আলগাওজ-এর তাহকীক-সম্পাদনায় ভালো কাগজ ও দৃষ্টিনন্দন সজ্জায় প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদকের টীকা-টিপ্পনীগুলোও ভালো ও উপকারী।

৫. শায়খ মুহিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন কাসিম (আখাওয়াইন) হানাফী রাহ. (৯০৪ হি.)। তার কিতাবের নাম

السيف المشهور على الزنديق وساب الرسول

৬. হাফেয জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. (৯১১ হি.)। তার কিতাবের নাম

تنزيه الأنبياء عن تسفيه الأغبياء الحاوي للفتاوي

কিতাবটি তাঁর ফাতাওয়াসমগ্র ‘আলহাবী লিল ফাতাবী’ (১/২৩২-২৪৩) তে সংযুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

৭. আল্লামা ইবনে কামাল পাশা হানাফী রাহ. (৯৪০ হি.)-এরও একটি রিসালা

 السيف المسلول في سب الرسول

নামে রয়েছে। যার মাখতূত বা হস্তলিখিত পান্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের ‘খিযানা সুলাইমানিয়া’য় সংরক্ষিত আছে। পান্ডুলিপিটির একটি ফটোকপি জামেয়া ইসলামিয়া মদীনা মুনাওয়ারায় রয়েছে।

৮. মুহাদ্দিস ইবনে তুলুন হানাফী রাহ. (৯৫৩ হি.) তার কিতাবের নাম

رشق السهام في أضلاع من سب النبي صلى الله عليه وسلم

৯. ফকীহ ইবনে আবেদীন শামী হানাফী রাহ. (১২৫২ হি.)। তার রিসালার নাম

تنبيه الولاة والحكام على أحكام شاتم خير الأنام أو أحد أصحابه الكرام عليه وعليهم الصلاة والسلام

 ‘মাজমুআতু রাসায়েলে ইবনে আবেদীন’-এ (১/৩১৩-৩৭১) অন্যান্য রিসালার সাথে এটিও আছে।

১০. আল্লামা মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনে সিদ্দীক গুমারী রাহ. (১৪১৩ হি.)-এর রিসালার নাম

السيف البتار لمن سب النبي المختار

এখানে দশজন মনীষীর দশটি কিতাবের নাম লেখা হল। ইবনে তাইমিয়া ও তাকী উদ্দীন সুবকী ও ইবনে আবেদীন শামীর কিতাবের মধ্যে যেকোনোটি দিয়ে আপনি মুতালাআ শুরু করতে পারেন। তবে ভালো হয়, কোনো সহজ কিতাব আগে পড়ে নেওয়া। এজন্য উর্দু ভাষায় এইচ সাজেদ আওয়ান রচিত

 تحفظ ناموس رسالت اور گستاخ رسول كى سزا

নামক কিতাবটি সংগ্রহ করতে পারেন। প্রায় সাড়ে সাত শত পৃষ্ঠার এই কিতাবটি সংকলকের রুচি ও পরিশ্রমের সাক্ষর বহন করে।

তাছাড়া উর্দু ভাষায় আরো কিছু কিতাব আছে। যেমন-‘ইহানাতে রাসূল আওর আযাদীয়ে ইযহার’। পাকিস্তানের ‘ইসলামী নযরীয়াতি কাউন্সিল’ থেকেও এ বিষয়ে আলাদা রিসালা প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের বাংলা ভাষার দুর্ভাগ্য যে, এই নিয়ে নাস্তিক ও বিধর্মীদের প্রপাগান্ডা সম্বলিত প্রচুর বইপত্র থাকা সত্ত্বেও আমার জানা মতে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে হক্কানী আলিম-লেখকদের কোনো প্রামাণ্য গ্রন্থ বের হয়নি। আল্লাহ তাআলা তাঁর কোনো বান্দাকে এই খেদমতের জন্য কবুল করুন। আমীন।

(তথ্য সূত্র: মাসিক আলকাউসার, মার্চ,২০১১) কিছুটা পরিবর্তিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>